• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন

লন্ডনে ব্রেন টিউমারে চিকিৎসাধীন ইলিয়াস কাঞ্চন, সুস্থতার প্রার্থনায় পরিবার

নিউজ ডেস্ক
আপডেট : রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন বর্তমানে লন্ডনে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। দীর্ঘ সাত মাস ধরে তিনি অসুস্থ, যার মধ্যে ছয় মাস ধরে লন্ডনে চিকিৎসা চলছে। সেখানে তিনি মেয়ের বাসায় অবস্থান করছেন।

সম্প্রতি নিসচার এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডা থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মইন। এ ছাড়া শনিবার দুপুরে তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানান জামাতা আরিফুল ইসলাম।

আরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, “গত ২৬ এপ্রিল থেকে আব্বু (ইলিয়াস কাঞ্চন) আমাদের লন্ডনের বাসায় আছেন। হার্লি স্ট্রিট ক্লিনিকের অনকোলজিস্ট ডা. ভিনায়ার নেতৃত্বে তাঁর চিকিৎসা চলছে। গত ৫ আগস্ট উইলিংটন হাসপাতালে অধ্যাপক ডিমিট্রিয়াসের নেতৃত্বে তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। টিউমারের কিছু অংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে পুরো টিউমার অপসারণ করলে জীবনহানির ঝুঁকি ও প্যারালাইসিসের আশঙ্কা ছিল, তাই চিকিৎসকের পরামর্শে আংশিক অপসারণই করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর বাকি টিউমার রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করার চিকিৎসা চলছে। গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে টার্গেট থেরাপি, যা সপ্তাহে পাঁচ দিন (সোম–শুক্র) করে ছয় সপ্তাহ চলবে। এরপর চার সপ্তাহ ডাক্তারদের পর্যবেক্ষণে বিশ্রামে থাকবেন তিনি।

দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসা ও একঘেয়ে জীবনযাপনের কারণে মানসিকভাবেও কিছুটা ভেঙে পড়েছেন এই গুণী অভিনেতা। আরিফুল ইসলাম বলেন, আব্বু সবকিছু বুঝছেন, দেখছেন। কর্মব্যস্ত জীবন থেকে হঠাৎ এই নিঃসঙ্গ জীবনে মানিয়ে নিতে তাঁর কষ্ট হচ্ছে। শরীরেও দুর্বলতা এসেছে, কথা বলতে কষ্ট হয়। ফোনে কথা বলা একদম নিষেধ। তবু তিনি নিসচার কাজের খোঁজ রাখছেন।

ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক খোঁজ নিতে সম্প্রতি তাঁর মেয়ের বাসায় গিয়েছিলেন চিত্রনায়িকা রোজিনা, আর নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন চিত্রনায়িকা সোনিয়াও।

চিকিৎসা শুরুর পর থেকেই ইলিয়াস কাঞ্চনের ফোন কার্যত বন্ধ থাকায় চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই তাঁর খবর নিতে পারছেন না।
পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে— সবাই তাঁর জন্য দোয়া করুন, যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে তিনি আবারও আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন।

 

তথ্য: প্রথম আলো, ছবি সংগ্রহীত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো