• রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

দর্শক হলমুখী না হলে ইন্ডাস্ট্রি বাঁচবে না: কমল পাটেকর

এম.আর.জে শান্ত
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশের জনপ্রিয় খল-অভিনেতা কমল পাটেকরের অভিনয় জীবনের শুরুটা সত্যিই সিনেমার গল্পের মতো। তার ভাষায়, একসময় নায়ক-নায়িকাদের এক নজর দেখার আশায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) গেটের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতেন তিনি। সেই অপেক্ষার দিনই একসময় তাকে পৌঁছে দেয় রূপালি পর্দায়।
কমল পাটেকর জানান, প্রোডাকশন ম্যানেজার রতনের হাত ধরেই তার চলচ্চিত্রে আসা। পরিচালক দারাশিকো পরিচালিত ‘ফকির মজনু শাহ’ চলচ্চিত্রে এক্সট্রা আর্টিস্ট হিসেবে শুরু হয় তার অভিনয় যাত্রা। সেই প্রথম কাজের স্মৃতি আজও তার কাছে ভীষণ আবেগের। ছবিতে বস্তিবাসীর একটি চরিত্রে শট দেওয়ার পর নাস্তা, দুপুরের খাবার সবকিছু পেয়ে তিনি ছিলেন মহাখুশি। শুটিং শেষে বিকেলে বিএফডিসির গেটে নামিয়ে দেওয়ার সময় একজন এর কাছ থেকে ২০ টাকা পারিশ্রমিক পান। কমল পাটেকরের ভাষায়, তখন তো আনন্দে আত্মহারা। অভিনয় করছি, আবার খাবার পাচ্ছি, তার ওপর টাকা।
সেই আনন্দই তাকে পরদিন সকাল সাতটার কল টাইমের আগেই, ভোর ছয়টায় বিএফডিসির গেটে হাজির করেছিল। এভাবেই ধীরে ধীরে মনতাজুর রহমান আকবর, শাহাদাৎ হোসেন লিটনসহ একাধিক পরিচালকের ছবিতে কাজের সুযোগ পান তিনি। তবে তার ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে পরিচালক শাহীন সুমনের হাত ধরে। মূল চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দিয়ে গল্পনির্ভর ছবিতে তাকে জায়গা করে দেন শাহীন সুমন, যেখানে সংলাপ ও অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ পান কমল পাটেকর।
শক্ত চেহারা, রুক্ষ অভিব্যক্তি আর কণ্ঠের জোরালো উপস্থিতির কারণে তিনি দ্রুতই খল-অভিনেতা হিসেবে দর্শকের নজরে পড়েন। অ্যাকশনধর্মী ও বাণিজ্যিক ছবিতে ভিলেন, গ্যাং লিডার কিংবা প্রভাবশালী প্রতিপক্ষ চরিত্রে তাকে বারবার দেখা গেছে। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে এখন পর্যন্ত তিনি ১২শ’র বেশি সিনেমায় কাজ করেছেন, যা তাকে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও পরিচিত খল-অভিনেতার তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।
বর্তমান বাংলা চলচ্চিত্র নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কমল পাটেকর আক্ষেপ করে বলেন, সিনিয়র খল-অভিনেতাদের মধ্যে এখন মিশা সওদাগর ছাড়া তেমন কাউকে পাওয়া যায় না। নতুন অনেকেই আসছেন, কিন্তু দর্শকের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না। তার মতে, একজন অভিনেতা তৈরি করার মূল কারিগর পরিচালক। পরিচালকের যত্ন ও নতুনদের অভিনয়ে মনোযোগ, চরিত্র বোঝার চেষ্টা থাকলে এই সংকট কাটানো সম্ভব।
ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বয়স বেড়েছে, আগের মতো সব কাজ করা সম্ভব হয় না। সম্প্রতি হজও পালন করে এসেছেন। তবুও চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা কমেনি। যতদিন বেঁচে আছি, সিনেমার সাথেই থাকতে চাই, বলেন তিনি।
দর্শকদের উদ্দেশে কমল পাটেকরের আহ্বান স্পষ্ট। তার মতে, দর্শক যদি হলে গিয়ে সিনেমা দেখেন, তাহলেই বাংলা চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াবে। নতুনদের গ্রহণ করতে হবে, গুজবে কান না দিয়ে নিজে হলে গিয়ে ভালো-মন্দ বিচার করতে হবে। ভালো সিনেমা হলে প্রযোজক-পরিচালক ও শিল্পীরা নতুন কাজের অনুপ্রেরণা পাবেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বলেন,দর্শকদের জন্যই আমরা কাজ করি। দর্শক চাইলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি আবার ঘুরে দাঁড়াবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো