২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব উপলক্ষে আগামী ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, বিকাল ৫টা বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল (শাহবাগ) মিলনায়তনে প্রদর্শিত হবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “বেহুলা দরদী”। প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত।
ঐতিহ্যবাহী বেহুলা লক্ষিন্দরের গীতিনাট্য বেহুলা নাচারি গীতিনাট্য কে উপজীব্য করে নির্মিত হয়েছে সিনেমা ‘বেহুলা দরদী’। টাঙ্গাইলসহ আশেপাশে কয়েকটি জেলাতে এক সময় বেহুলা ও লক্ষিন্দরের কাহিনীকে কেন্দ্র করে গীতিনাট্য বেহুলা নাচারি পালা গ্রামে-গঞ্জে প্রদর্শিত হতো। এমন একটি দলের সদস্যদের জীবনের গল্পের উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।
পরিচালক সবুজ খান বলেন, আমার পূর্ব পুরুষরা একসময় বেহুলা লক্ষিন্দরের কাহিনী নিয়ে গ্রাম গঞ্জে নাচারি ও গীতিনাট্য প্রদর্শন করতেন। আমার নিজের চোখে দেখা গল্পগুলো আমার প্রথম সিনেমা বেহুলা দরদীতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। গ্রামের বাংলার লোকজ সংস্কৃতি সারাদেশে পৌঁছে যাক, মাটি-মানুষের গল্পগুলো দর্শক হৃদয় ছুয়ে যাবে বলেই আমার বিশ্বাস।
অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু বলেন, বেহুলা দরদী এমন একটি সিনেমা, যার শুটিং হয়েছে র লোকেশনে। যেখানকার গল্প, সেই জায়গায় আমরা শুটিং করেছি। এই ব্যাপারটার মাঝে একটা অদ্ভুত শান্তি আছে। আর সিনেমাটা টাঙ্গাইলের মধুপুর অঞ্চলের নাচারি ও পালার গানের সংস্কৃতির ইতিহাসটার একটি ডকুমেন্ট হিসেবে কাজ করবে বলে আমার ধারণা। বলা যায়, এই সিনেমা ওই অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতির আর্কাইভ হয়ে থাকবে।
সিনেমার গল্পে দেখা যাবে নাগবাড়ি বেহুলা নাচারি দলের প্রধান ভোলা মিয়া তাদের নাচারি গানের দলটিকে টিকিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত হিমসিম খাচ্ছেন। পর পর কয়েকবার ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রতিযোগিতায় হেরে দলটির সম্মান প্রায় তলানিতে। এই অবস্থায় দলটিকে প্রতিযোগিতায় জেতাতে চলবে নানা চেষ্টা। আর এভাবে এগিয়ে যাবে সিনেমার গল্প।
বেহুলা দরদী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, প্রাণ রায়, সূচনা সিকদার, আশরাফুল আশীষ, আজিজুন মীম, আঁখি আক্তার, সেলজুক ত্বারিক, মো: আলগীর হেসেন, শেখ মেরাজুল ইসলাম, আফফান মিতুল, রেশমি আহামেদ, সানজিদা মিলা, হাসিমুন, স্নিগ্ধা হোসেইন, ইমরান হাসো, মনিষা শিকদার, নয়ন আহমেদ কাজলসহ মধুপুরের একঝাঁক অভিনয় শিল্পী।
সিনেমাটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন নির্ঝর চৌধুরী, চিত্রগ্রহণ করেছেন নাহিয়ান বেলাল ও সম্পাদনা করেছেন আমিনুল সিকদার ও প্রোজেক্ট ম্যানেজার চলচ্চিত্র নির্মাতা সাব্বির আহমেদ শ্রাবণ।