• সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন

যে কারণে বলিউডে গতি হারালেন রিয়া সেন

নিউজ ডেস্ক
আপডেট : শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

খুব অল্প বয়সেই আলোচনায় আসেন বলিউড অভিনেত্রী রিয়া সেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ফাল্গুনী পাঠকের জনপ্রিয় গান ‘ইয়াদ পিয়া কি আনে লগি’–র মিউজিক ভিডিও তাকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়। টলিউড-বলিউড মিলিয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি কাজ করেছেন ৩০টিরও বেশি সিনেমায়— ‘স্টাইল’, ‘ঝংকার বিটস’, ‘শাদি নাম্বার ওয়ান’, ‘আপনা সাপনা মানি মানি’—এসব হিট ছবির কারণে তিনি হয়ে ওঠেন তরুণ দর্শকদের চেনা মুখ। বাংলাদেশের সিনেমাতেও তাকে দেখা গেছে। তবে ক্যারিয়ারের সেই জৌলুস ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাওয়ার পেছনে ছিল একাধিক কারণ।
২০০৫ সালে রিয়ার ব্যক্তিগত একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর বলিউডে শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক। এর প্রভাব পড়ে সরাসরি তার ক্যারিয়ারে। বেশ কিছু প্রজেক্ট হাতছাড়া হয়, কমে যায় কাজের সুযোগ। যদিও এই ঘটনাই ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়—এমন বক্তব্য রিয়া নিজে কখনো স্পষ্টভাবে দেননি, কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই মনে করেন, তখনই তার পথচলায় বড় ধাক্কা আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাকে দেখা যায় মূলত পার্শ্বচরিত্রে। চলতি বছরে অভিনয় করেছেন ‘নাদানিয়া’ চলচ্চিত্রে; মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার ওয়েব সিরিজ ‘পরিণীতা’।
তবে বিতর্কই শুধু বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, নিজের অস্বস্তিও ছিল বড় কারণ। সম্প্রতি পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিয়া জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে উৎসাহ থাকলেও দ্রুতই বুঝতে পারেন যে, তিনি যেসব চরিত্রে অভিনয় করছিলেন, সেগুলো তার সঙ্গে মানাচ্ছিল না। তখন বলিউডে গ্ল্যামারই ছিল প্রধান মূল্য। কী পোশাক পরছেন, কতটা সাহসী দৃশ্যে অংশ নিচ্ছেন—এসবের ওপরই নির্ভর করত অভিনেত্রীদের অবস্থান। স্কুলপড়ুয়া বয়সেই ‘সাহসী অভিনেত্রী’র তকমা পেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই চাপই তাকে ক্রমে দূরে সরিয়ে দেয় মূলধারার বলিউড থেকে। নিজের সিদ্ধান্তেই ধীরে ধীরে কমিয়ে দেন কাজ।
কিন্তু এ সিদ্ধান্তই তার জীবনে নতুন পথ তৈরি করে। বাংলা সিনেমায় ফিরে তিনি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ পান। ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘নৌকাডুবি’ (২০১১) ছবিতে তার অভিনয় প্রশংসা কুড়ায়। এরপর *‘জাতিস্মর’, ‘হিরো ৪২০’*সহ একাধিক সিনেমায় তিনি প্রমাণ করেন, গ্ল্যামারের বাইরেও তার অভিনয়ের শক্তি রয়েছে। তার ভাষায়, বাংলা সিনেমায় তিনি ‘নিজের মতো হতে পেরেছেন’। পরিচালকেরা তাকে চরিত্রের গভীরতা দিয়ে বিচার করেছেন, ইমেজ দিয়ে নয়।
ওটিটির উত্থান তার ক্যারিয়ারে নতুন দিগন্ত যোগ করেছে। ‘রাগিণী এমএমএস: রিটার্নস’, ‘পয়জন’, ‘মিসম্যাচ’–এর মতো ওয়েব সিরিজে রিয়াকে দেখা গেছে একেবারে আলাদা সব চরিত্রে। রিয়ার মতে, ওয়েব প্ল্যাটফর্ম তার কাছে বেশি স্বস্তিদায়ক—এখানে বৈচিত্র্যের সুযোগ আছে, চরিত্রের গভীরতা আছে, আর সবচেয়ে বড় কথা—ইমেজের চাপ নেই।
রিয়া সেনের রূপালি পর্দার পথচলা যতটাই আলো–আলোড়নে ভরা, ততটাই রয়েছে চ্যালেঞ্জ ও আত্মসংগ্রাম। অভিনয়ের প্রতি টান আর নিজস্বতা ধরে রাখার ইচ্ছাই তাকে আজও দৃশ্যে রাখছে। তিনি যে পরিবারের, তাও কম গৌরবের নয়—বলিউডের কিংবদন্তি সুচিত্রা সেনের নাতনি ও অভিনেত্রী মুনমুন সেনের মেয়ে তিনি। অভিনয়ের মজ্জায় জন্মালেও নিজের পথ তাঁকে লড়াই করেই তৈরি করতে হয়েছে।
রিয়াকে ঘিরে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে আবারও। বলিউডে নয়, বরং বাংলা সিনেমা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মেই যেন তিনি আজ নিজের জায়গা খুঁজে পেয়েছেন—যেখানে গ্ল্যামারের নয়, অভিনেত্রী রিয়া সেনের পরিচয়টাই মুখ্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো