এক সময় পর্দায় তাঁর উপস্থিতিই মানে ছিল ভয়, উত্তেজনা আর তুমুল করতালি। ‘হিরোগিরি’, ‘রংবাজ’, ‘চ্যালেঞ্জ ২’, ‘বিন্দাস’—এর মতো হিট সিনেমায় খলনায়কের চরিত্রে দাপিয়ে অভিনয় করেছিলেন টলিউড অভিনেতা সুরজিৎ সেন। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, দৃঢ় সংলাপ আর বলিষ্ঠ অভিনয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সময়ের আবর্তে সেই আলো আজ নিভে গেছে নিঃশব্দে।
এখন আর আলো ঝলমলে সেট নয়, সুরজিতকে দেখা যায় ব্যারাকপুরের এক ছোট মুদির দোকানে। পাঁচ বছর ধরে পর্দা থেকে দূরে এই অভিনেতা। তাঁর জীবনের রোজকার লড়াই এখন দোকানের কাউন্টারে—চলে মুদির পণ্য, আইসক্রিম ও নরম পানীয় বিক্রি করে।
অতীতের স্মৃতি মনে করেই সুরজিত বলেন, ১৯৯৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত অভিনয় করেছি, কিন্তু সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচ লাখ টাকা রোজগার করতে পেরেছি। ভাবুন, কতটা কঠিন সময় গেছে!
কণ্ঠে আক্ষেপ আর ক্লান্তি মেশানো স্বীকারোক্তি, তৃণমূল সরকার আসার পর থেকে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। অনেকে ধরে নেন আমি হয়তো অন্য দলের লোক—কিন্তু আমি কোনোদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।
রূপালি পর্দার সেই খলনায়ক আজ জীবনের বাস্তব মঞ্চে অন্য চরিত্রে। ক্যামেরার ফ্ল্যাশের বদলে দোকানের মৃদু আলোয় কাটছে দিন। তবে মুখে নেই হতাশার ছাপ, বরং এক শান্ত দৃঢ়তা—অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছে নেই আর। এখন নিজের ব্যবসা নিয়েই বাঁচতে চাই।
এক সময় পর্দায় যার উপস্থিতিতে কেঁপে উঠত সিনেমা হল, আজ তিনি সাধারণ মানুষের মতো নিজের জীবনযুদ্ধ লড়ে যাচ্ছেন নীরবে। খলনায়কের সেই জীবনের নতুন অধ্যায় যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—চলচ্চিত্রের আলো যতই উজ্জ্বল হোক, বাস্তবের জীবন কিন্তু তার চেয়েও কঠিন ও নির্মম।