মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ সেই অপ্রতিরোধ্য নায়ককে...
বাংলা সিনেমায় এক সময় অ্যাকশন মানেই ছিল জসিম। তিনি শুধু পর্দার নায়ক নন, ছিলেন এক যুগের প্রতীক—সংগ্রাম, সাহস আর ন্যায়ের প্রতিচ্ছবি। আজ তাঁর জন্মদিনে আবারও মনে পড়ে যায় সেই দিনগুলো, যখন সিনেমা হলে তাঁর নাম শুনেই দর্শকদের হৃদস্পন্দন বেড়ে যেত।
১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকায় জন্ম নেওয়া আবুল খায়ের জসিম একাধারে অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের প্রথম সত্যিকারের অ্যাকশন হিরো হিসেবে পরিচিত। তবে এই পরিচয়ের পেছনে লুকিয়ে আছে অগণিত পরিশ্রম, ত্যাগ আর দেশপ্রেমের গল্প।
স্বাধীনতার আগে তিনি ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে দেশের ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। যুদ্ধশেষে হাতে তুলে নেন সিনেমার অস্ত্র—রূপালি পর্দার লড়াই। প্রথম অভিনয় করেন ‘দোস্ত দুশমন’ ছবিতে, যেখানে তাঁর বিপরীতে ছিলেন রাজ্জাক। সেখান থেকেই শুরু হয় অ্যাকশন হিরো জসিমের নতুন অধ্যায়।
৮০ ও ৯০ দশকে বাংলা সিনেমায় রাজত্ব করেছেন তিনি। ‘বড় ভাললোক ছিল’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘জিন্দাবাহার’, ‘সন্ত্রাস’, ‘যোদ্ধা’, ‘এক মানিকের বিয়ে’—এমন অসংখ্য ছবিতে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মাতিয়ে রাখত। তাঁর সংলাপ, চোখের ভাষা আর ঘুষির দৃঢ়তা আজও দর্শক ভুলতে পারেনি।
অন্যদিকে, পর্দার বাইরে জসিম ছিলেন বিনয়ী ও প্রফুল্ল মানুষ। সহকর্মীদের প্রতি সম্মান আর দর্শকদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাই তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর এই মহাতারকা পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। তবে চলে গিয়েও তিনি বেঁচে আছেন প্রতিটি সিনেমাপ্রেমীর হৃদয়ে। আজও যখন কেউ বলেন, বাংলা সিনেমায় আসল হিরো কে? উত্তর আসে একটাই—জসিম।
তাঁর মৃত্যু বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইল সেই মানুষটির প্রতি, যিনি একসময় পর্দায় ন্যায়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
তিনি প্রমাণ করে গেছেন—নায়ক হওয়া সহজ, কিন্তু জসিম হওয়া কিংবদন্তি।